ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় দলীয় শৃঙ্খলার খড়্গ: রুমিন ফারহানার পক্ষে কাজ করায় ছাত্রদলের ৭ নেতা বহিষ্কার
নিজস্ব প্রতিবেদক : বিডিএস বুলবুল আহমেদ
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ (সরাইল-আশুগঞ্জ-বিজয়নগরের একাংশ) আসনে রাজনৈতিক উত্তাপ চরম আকার ধারণ করেছে। দলীয় সিদ্ধান্ত অমান্য করে বিএনপি থেকে বহিষ্কৃত স্বতন্ত্র প্রার্থী ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ার অভিযোগে সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাত নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে। এই পদক্ষেপের মাধ্যমে নির্বাচনে দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় কঠোর বার্তা দিল কেন্দ্রীয় ছাত্রদল।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) রাতে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এই বহিষ্কারের কথা জানানো হয়।
বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক জুনায়েদ মিয়া, সরাইল সরকারি কলেজ শাখা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক জাকির হোসেন, সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আল আমিন, চুন্টা ইউনিয়ন ছাত্রদলের সাবেক সভাপতি মো. আল আমিন, সাবেক সহ-সভাপতি নাজিম উদ্দিন, সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাসুম এবং শাহজাদাপুর ইউনিয়ন ছাত্রদলের সহ-সভাপতি শেখ রমজান।
এর আগে একই অভিযোগে সরাইল উপজেলা বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি, উপজেলা শ্রমিক দলের সভাপতি ও উপজেলা যুবদলের সদস্যসচিবসহ বিভিন্ন পর্যায়ের অর্ধশতাধিক নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়। এমনকি শাহজাদাপুর ইউনিয়ন বিএনপির ৭১ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ কমিটিও স্থগিত করা হয়েছে।
বাংলার রাজনৈতিক ইতিহাসে রাজনৈতিক দল থেকে বহিষ্কার ও বিদ্রোহী প্রার্থীর ঘটনা নতুন নয়। ১৯০৬ সালে মুসলিম লীগের জন্ম থেকে শুরু করে ১৯৪৯ সালে আওয়ামী মুসলিম লীগ গঠন—প্রতিটি পর্যায়েই আদর্শিক বা কৌশলগত কারণে নেতাদের দল ত্যাগ বা বহিষ্কারের নজির রয়েছে। ১৯৫৪ সালের যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনেও অনেক ক্ষেত্রে বড় দলের বিরুদ্ধে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা লড়াই করেছিলেন।
২০২৬ সালের এই ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে সেই ইতিহাসেরই এক আধুনিক সংস্করণ দেখা যাচ্ছে। ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানা, যিনি একাদশ জাতীয় সংসদে বিএনপির সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য এবং দলের আন্তর্জাতিক বিষয়ক সহ-সম্পাদক ছিলেন, দলীয় জোটের সিদ্ধান্ত অমান্য করে 'হাঁস' প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়েছেন। এর ফলে গত ৩০ ডিসেম্বর তাকে বিএনপি থেকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার করা হয়। উল্লেখ্য, এ আসনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের শরিক জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা জুনায়েদ আল হাবিব 'খেজুরগাছ' প্রতীকে নির্বাচন করছেন।
এ বিষয়ে সরাইল উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক জামাল হোসেন লস্কর স্পষ্ট ভাষায় জানিয়েছেন, দল যেখানে জোটগতভাবে প্রার্থী দিয়েছে, সেখানে বিদ্রোহী প্রার্থীর পক্ষে কাজ করা সুস্পষ্ট শৃঙ্খলাভঙ্গ। তিনি বলেন, "জোটের মনোনীত প্রার্থীর বিরুদ্ধে গিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের জন্য দলে কোনো জায়গা নেই। প্রমাণ সাপেক্ষেই এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।"
অন্যদিকে, সরাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার বিরুদ্ধে পক্ষপাতের অভিযোগ তুলেছেন রুমিন ফারহানা। তিনি অভিযোগ করেছেন, তাকে প্রচারণায় বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং জোটের প্রার্থীর বিভিন্ন আচরণবিধি লঙ্ঘনের বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের ভোট যুদ্ধ এখন কেবল প্রার্থীদের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি দলীয় আনুগত্য বনাম জনপ্রিয়তার লড়াইয়ে পরিণত হয়েছে। ২০২৬ সালের এই প্রেক্ষাপটটি ভবিষ্যতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ইতিহাসের পাতায় একটি গুরুত্বপূর্ণ উদাহরণ হিসেবে যুক্ত হবে।
সূত্র: নিজস্ব প্রতিবেদক, যুগান্তর অনলাইন আর্কাইভ, বাংলাদেশ প্রতিদিন ডিজিটাল ডেসক, ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় দপ্তর এবং স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষণ।
বিশ্লেষণ: এই প্রতিবেদনটি মূলত ২০২৬ সালের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়কালে ব্রাহ্মণবাড়িয়া অঞ্চলের রাজনৈতিক সংকটকে ফুটিয়ে তুলেছে। ১৯০০ সাল থেকে শুরু করে গত ১২৬ বছরের রাজনৈতিক বিবর্তনে বিদ্রোহ ও বহিষ্কার কীভাবে দলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিকে প্রভাবিত করে, এখানে তার একটি বর্তমান চিত্র তুলে ধরা হয়েছে। রুমিন ফারহানার জনপ্রিয়তা বনাম জোটের প্রার্থীর সাংগঠনিক শক্তি—এই দ্বৈরথই এখন এলাকার প্রধান আলোচনার বিষয়।
প্রতিবেদক:বিডিএস বুলবুল আহমেদ
আরও খবর জানতে ভিজিট করুন: বাংলাদেশ প্রতিদিন
| ফজর | 3:50 AM ভোর |
|---|---|
| যোহর | 12:04 দুপুর |
| আছর | 4:44 PM বিকাল |
| মাগরিব | 6:50 PM সন্ধ্যা |
| এশা | 8:17 PM রাত |
| জুম্মা | 1.30 pm দুপুর |